মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৬ পূর্বাহ্ন

হার দিয়ে সিরিজ শুরু বাংলাদেশের

পাকিস্তানের কাছে ২১ রানে হেরে ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু করলো বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৬৭ রান তাড়ায় বাংলাদেশ থেমেছে ৮ উইকেটে ১৪৬ রানেই। ২১ রানে হেরেছে টাইগারবাহিনী।

ব্যাটিংয়ের প্রথমেই সাব্বির ও মিরাজকে হারিয়ে চাপে পড়েছিল টাইগাররা। তবে সেই চাপ সামলে নিয়েছিলেন লিটন দাস ও আফিফ হোসেন। দুজনের ব্যাটে ভালোভাবেই এগোচ্ছিল বাংলাদেশ। তবে মোহাম্মদ নেওয়াজের বলে ছয় মারতে গিয়ে ক্যাচ আউট হন লিটন। ফেরেন ৩৫ করে।

এরপর আরও দুই উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ। যা থেকে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।

তবে শেষে ইয়াসির আলি কিছুটা লড়াই করে গিয়েছিলেন। তবে তা যথেষ্ট ছিল না। ইয়াসির আলির অপরাজিত ২১ বলে ৪২ রানের ইনিংসে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪৬ রান করে বাংলাদেশ।

এর আগে ১৬৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ২৫ রানে মোহাম্মদ ওয়াসিমের বলে আউট হন মিরাজ। এরপর দলীয় ৩৭ রানে হাসান রাউফের বলে ১৮ বলে ১৪ রান করে আউট হন সাব্বির।

এদিকে, তাসকিন-নাসুমের দারুণ বোলিংয়ের মাঝেও ব্যর্থ ছিলেন মুস্তাফিজ-হাসান মাহমুদরা। যেখানে তাসকিন তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে পাকিস্তানকে চেপে ধরেছিলেন। সেখানে মুস্তাফিজ চার ওভারে দিয়েছেন ৪৮ রান; উইকেট পাননি একটিও। হাসান মাহমুদও খরুচে ছিলেন এদিন। ৪ ওভার বোলিং করে ৪২ রান দিয়েছেন এ পেসার।

টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে ভালো শুরু এনে দেন রিজওয়ান ও বাবর। তবে ম্যাচের অষ্টম ওভারে তাদের জুটি ভাঙেন মিরাজ। সুইপ করতে গিয়ে মুস্তাফিজের হাতে ক্যাচ দিয়ে ২৫ বলে ২২ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন বাবর।

এরপর শান মাসুদকে ফেরান নাসুম আহমেদ। আর ইয়াসির আলীর দারুণ এক ক্যাচে তাসকিনের করা তৃতীয় ওভারে প্যাভিলিয়নে ফেরেন হায়দার আলি। তবে পাকিস্তানের অন্য ব্যাটসম্যানরা যেখানে ব্যর্থ, সেখানে বরাবরের মতো জ্বলে উঠেছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। তার অপরাজিত ৫০ বলে ৭৮ রানের ইনিংসে ভর করে ১৬৭ রানের পুঁজি পায় পাকিস্তান।

বাংলাদেশের হয়ে দুটি উইকেট পেয়েছেন তাসকিন। এ ছাড়াও একটি করে উইকেট পেয়েছেন হাসান মাহমুদ, মেহেদী এবং নাসুম আহমেদ।

আগামীকালই স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নামবে পাকিস্তান। বাংলাদেশের পরের ম্যাচ আগামী ৯ অক্টোবর, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।

হতাশ করে ফিরলেন সোহান

১৫তম ওভারের পঞ্চম বলে নুরুল হাসানকে তুলে নিলেন লেগ স্পিনার শাদাব খান। স্লগ সুইপ করতে গিয়ে লং অনে ক্যাচ দেন। ৯ বলে ৮ রানে ফিরলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। বাংলাদেশ ১৫.৫ ওভারে ৬ উইকেটে ১০১।

আফিফের বিদায়, চাপে বাংলাদেশ

শাহনওয়াজ দাহানিকে মিড অফে তুলে মারতে গিয়ে ক্যাচ দেন আফিফ। ২৩ বলে ২৫ রান করে ফিরলেন।

পরপর ফিরলেন লিটন-মোসাদ্দেক

পরপর দুই বলে দুই উইকেট নেই, নেওয়াজ হ্যাটট্রিকের সামনে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন। নুরুল হাসানের জন্য স্লিপেও আনা হয়েছিল ফিল্ডার, যদিও হ্যাটট্রিক পাননি নেওয়াজ।

নেওয়াজের বলে পেছনের পায়ে ভর দিয়ে আড়াআড়ি খেলতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন। আম্পায়ারের এলবিডব্লুর সিদ্ধান্ত রিভিউ করেছিলেন, তবে কাজে আসেনি সেটি। মোসাদ্দেক গোল্ডেন ডাক, চাপ আরেকটু বাড়ল বাংলাদেশের।

আগের ওভারে এমন দুটি স্লগ সুইপে চার পেয়েছিলেন লিটন দাস, এবার ধরা পড়লেন হায়দার আলীর হাতে। স্কয়ার লেগে প্রথমে বল থামানোর পর সেটি নিয়েছেন হায়দার। আফিফের সঙ্গে লিটনের জুটি থামল ফিফটির পরপরই। ২৬ বলে ৩৫ রান করে থেমেছেন লিটন।

মিরাজের পর সাব্বিরের বিদায়

লেগ সাইডে খেলতে গিয়েছিলেন, বল উঠে গেছে খাড়া ওপরে। এর আগে তার বলে একটি ক্যাচের সুযোগ ঠিকঠাক নেননি দাহানি, হারিস এবার নিজেই নিয়েছেন ক্যাচ। সাব্বির ফিরেছেন ১৮ বলে ১৪ রান করে।

২ উইকেটে ৩৮ রান নিয়ে পাওয়ারপ্লে শেষ করেছে বাংলাদেশ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ ৬ ওভারে ৩৮/২ (পাকিস্তান ১৬৭/৫)

ফিরলেন মিরাজ

তবে ব্যাক অফ আ লেংথের বলে টাইমিং করতে পারেননি সেভাবে, বল গেছে স্কয়ার লেগে আসিফ আলীর হাতে। ১১ বলে ১০ রান করে ফিরলেন মিরাজ, সাব্বিরের সঙ্গে তাঁর ওপেনিং জুটিতে আজ উঠেছে ২৫ রান।

রিজওয়ানের ব্যাটে পাকিস্তানের সংগ্রহ ১৬৭

ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করে ১৬৭ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পেয়েছে পাকিস্তান। দলের হয়ে রিজওয়ান করেছেন ৭৮ রান।

২০ ওভারে পাকিস্তান ৫ উইকেট হারিয়ে ১৬৭ রান তুলেছে মোহাম্মদ রিজওয়ানের ৫০ বলে অপরাজিত ৭৮ রানের ইনিংসে। পাকিস্তানের ইনিংসের মূল কারিগর ছিলেন তিনিই, শুধু রান করা নয়, উইকেট ধরে রাখার কাজও করেছেন।

৪ ওভারে ২৫ রানে ২ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সফলতম বোলার তাসকিন আহমেদ। নাসুম আহমেদ ১ উইকেট নেন স্রেফ ২২ রান দিয়ে।

ঝড় বয়ে যায় মুস্তাফিজুর রহমানের উপর দিয়ে। বাঁহাতি এই পেসার ৪ ওভারে ৪৮ রান দিয়ে উইকেটশূন্য। হাসান মাহমুদ ১ উইকেট নেন ৪২ রান দিয়ে।

টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে ভালো শুরু এনে দেন রিজওয়ান ও বাবর। তবে ম্যাচের অষ্টম ওভারে তাদের জুটি ভাঙেন মিরাজ। এরপর শান মাসুদকে ফেরান নাসুম আহমেদ। আর ইয়াসির আলীর দারুণ এক ক্যাচে তাসকিনের করা তৃতীয় ওভারে প্যাভিলিয়নে ফেরেন হায়দার আলি।

তবে পাকিস্তানের অন্য ব্যাটসম্যানরা যেখানে ব্যর্থ, সেখানে বরাবরের মতো জ্বলে উঠেছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। তার অপরাজিত ৫০ বলে ৭৮ রানের ইনিংসে ভর করে ১৬৭ রানের পুঁজি পায় পাকিস্তান।

ইফতিখারকে ফেরালেন হাসান

হাসানের ব্যাক অফ দ্য হ্যান্ড স্লোয়ারে বড় শট খেলতে গিয়েছিলেন ইফতিখার আহমেদ। মিডউইকেটকে পার করাতে পারেননি। প্রথম বলে চারের পর দ্বিতীয় বলে ক্যাচ তুলে ফিরে গেছেন তিনি। মোস্তাফিজের ১৬ রানের ওভারের পর হাসান উইকেটে পেয়েছে, তবে ওভারে এসেছে ১২ রান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: পাকিস্তান ১৮ ওভারে ১৪৪/৪

এবার তাসকিনের শিকার হায়দার আলি

পুল করেছিলেন হায়দার আলি। মিডউইকেটে ইয়াসির আলী নিয়েছেন ভালো একটি ক্যাচ। হায়দার আলি ফিরেছেন ৬ বলে ৬ রান করে। এর আগে, তাসকিনের ইয়র্কার প্রায় পরাস্ত করেছিল রিজওয়ানকে। আম্পায়ারের নট আউটের সিদ্ধান্ত রিভিউ করেছিল বাংলাদেশ, তবে আল্ট্রা এজে দেখা গেছে, বল লেগেছিল রিজওয়ানের ব্যাটের গোড়ায়।

নাসুমের আঘাতে ফিরলেন মাসুদ

নাসুমকে জায়গা বানিয়ে লং অনের দিকে খেলতে গিয়ে আউটসাইড-এজড হয়েছেন এ বাঁহাতি, শর্ট থার্ডম্যানে দুবারের চেষ্টায় ক্যাচ নিয়েছেন হাসান। মাসুদ ফিরেছেন ২২ বলে ৩১ রান করে। ৯৪ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারিয়েছে পাকিস্তান।

বাবরকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙলেন মিরাজ

ক্রাইস্টচার্চে বাংলাদেশের বিপক্ষে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দারুণ ব্যাটিং শুরু করে পাকিস্তান। ওপেনিং জুটিতে ছাড়ায় ৫০ রান। মেহেদি মিরাজ ওই জুটি ভেঙেছেন।

লেগ-মিডলের ওপর বলটি সুইপ করতে গিয়ে টপ-এজড হয়েছেন বাবর আজম, শর্ট ফাইন লেগে ভুল করেননি মোস্তাফিজুর রহমান। ২৫ বলে ২২ রান করে ফিরেছেন পাকিস্তান অধিনায়ক, ভেঙেছে ৫২ রানের ওপেনিং জুটি।

ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে টসে জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় দলের অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। তবে দলে নেই বাংলাদেশ দলের নিয়মিত টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।

পাকিস্তান টি-টোয়েন্টিতে দারুণ দল, বিশ্বকাপেও গ্রুপ প্রতিপক্ষ বাবরের দল। এই সিরিজে তাদের সাথে খেলা প্রস্তুতির জন্য বড় সুযোগ। পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৫ টি-টোয়েন্টতে দুই জয় বাংলাদেশের।

বাংলাদেশ একাদশ
নুরুল হাসান (অধিনায়ক), সাব্বির রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ, আফিফ হোসেন, মোসাদ্দেক হোসেন, লিটন দাস, ইয়াসির আলী, তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ, মোস্তাফিজুর রহমান, নাসুম আহমেদ।

পাকিস্তান একাদশ
বাবর আজম (অধিনায়ক), মোহাম্মদ রিজওয়ান, শান মাসুদ, ইফতিখার আহমেদ, শাদাব খান, হায়দার আলী, আসিফ আলী, মোহাম্মদ নেওয়াজ, মোহাম্মদ ওয়াসিম, হারিস রউফ, শাহনেওয়াজ দাহানি।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com